২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ট্র্যাজিক হিরো’ যদি কাউকে বলতে হয়, তাহলে সবার আগে উঠে আসবে কিলিয়ান এমবাপের নাম। ২০১৮ সালে ফ্রান্স যখন বিশ্বজয় করেছিল, সেইসময় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন এই এমবাপে। এবারও সেই সুযোগ এসেছিল। কিন্তু, শেষপর্যন্ত স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। বিশ্বকাপের শেষ রাতে নায়ক হয়ে উঠলেন আর্জেন্তিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আর মহাভারতের সেই কর্ণ রয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে।

ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকে আর্জেন্তিনার দাপট দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু, মাত্র ২ মিনিটে ম্যাচের রং একেবারে বদলে দিলেন কিলিয়ান এমবাপে। ৮০ মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স ফুটবল দল। এই শটটি দলের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপে নেন। আর্জেন্তিনার গোলকিপার মার্টিনেজ একেবারে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু এমবাপের শট তিনি আটকাতে পারেননি। আর এভাবেই গোল করে ফ্রান্স এই ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করে। ম্যাচের ৮২ মিনিটে দুর্দান্ত গোল করলেন এমবাপে। তাঁর গোলেই ২-২ ব্যবধানে সমতা ফেরাল ফ্রান্স ফুটবল দল। এমবাপের এই গোলের ক্ষেত্রে অ্যাসিস্ট করেছিলেন মার্কাস থুরাম। অনেকেই বলতে শুরু করেন যে লিওনেল মেসি এবং বিশ্বকাপের মাঝে কাঁটা হয়ে উঠেছেন সেই কিলিয়ান এমবাপে।

নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্তিনা এবং ফ্রান্স ২-২ গোলে ড্র করেছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেছিলেন মেসি। তারপর দুরন্ত গোলে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অ্যাঞ্জেলো ডি মারিয়া। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৮ মিনিটে আরও একবার মেসি নিজের ম্যাজিক দেখালেন। তিনি চলতি ম্যাচে দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন। আর্জেন্তিনাকে ৩-২ গোলে এগিয়ে দেন আর সেইসঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে মেসি সপ্তম গোলটিও করে ফেলেন। কিন্তু এখানেও মেসিদের আটকে দেন সেই এমবাপে। ১১৮ মিনিটে গঞ্জালো মন্ট্রিয়েল ফাউল করেন। তাঁর হাতে বল লাগে। আর সেকারণেই ফ্রান্স পেনাল্টি পায়। আবারও এলেন সেই কিলিয়ান এমবাপে। তিনি গোল করে এই ম্যাচে তিনি ৩-৩ গোলে সমতা ফিরিয়ে আনে ফ্রান্স।

তবে ফ্রান্স ফাইনাল ম্যাচে পরাস্ত হলেও সোনার বুট জয় করলেন সেই এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে আটটি গোল করে তিনি এই খেতাব নিজের নামে করে নিলেন। এমবাপের ঠিক পিছনেই ছিলেন লিওনেল মেসি (আর্জেন্তিনা) – ৭ গোল। এরপর একে একে রয়েছেন অলিভার জিরোড (৪) এবং জুলিয়ান আলভারেজ (৪)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *