তৃণমূল বিধায়ক এর উদ্যোগ,কংগ্রেসের ৪ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেন

ক্যানিং

গণতন্ত্রের ইতিহাসে অনন্য নজীর। বাংলার যে কোন নির্বাচনে বিরলতম নিদর্শন স্থাপন করলো ক্যানিং ১ ব্লক।বৃহষ্পতিবার যেখানে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক পরেশরাম দাসের নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেসের ৪ প্রার্থী আহম্মদ পিয়াদা,আনোয়ারা সরকার,হাফিজুদ্দিন মন্ডল,সৈদুল সরদার’রা মনোনয়ন পত্র জমা দেয়।
উল্লেখ্য নির্বাচন ঘোষনা হওয়ার পর থেকে বিরোধীরা বার বার অভিযোগ তুলেছিলেন,তাদের কে মনোনয়ন জমা দিতে প্রবল বাধা দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং পুলিশ প্রশাসন। বিগত পাঁচদিনে ক্যানিং ১ নম্বর ব্লক ছিল অগ্নিগর্ভ। বিরোধী বিজেপি,বামফ্রন্ট,আইএসএফ ও কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবী তুলেছিলেন,তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডা বাহিনী মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধার সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি বেধড়ক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন।এতোসবের মধ্যে বুধবার বোমা গুলির লড়াইয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল ক্যানিং।গুলিতে দুজন জখম হয়েছিলেন।পাশাপাশি ৫ পুলিশ কর্মী জখম হয়েছিলেন।অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছিল।লাঠি চার্জ করতে হয়েছে। ঘটনায় পুলিশ ২৬ জন কে গ্রেফতার করেছে।এমত অবস্থায় বিরোধীরা যাতে নির্বিঘ্নে মনোনয়ন পত্র জমা করতে পারেন তার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস।তিনি জানিয়েছিলেন,বিরোধীরা যদি মনে করেন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সম্মূখীন হচ্ছেন। তাহলে তাঁরা যেন বিধায়কের কার্য্যালয়ে চলে আসেন।তিনি নিজেই তাঁদের কে নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার কাজ তদারকি করবেন।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহষ্পতিবার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল।বিগত দিনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্যানিং ১ বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে।এমন কি ক্যানিং থানার আইসি সৌগত ঘোষ বিডিও অফিস সংলগ্ন সমস্ত দোকানপাট বিকাল ৩ টে পর্যন্ত বন্ধ রাখার আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন স্বতঃষ্ফুর্ত ভাবে মেনে নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।বৃহষ্পতিবার পুরোপুরি বন্ধের চেহারা নেয় ক্যানিং শহর। এমন কি মনোনয়ন পত্র জমা দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ছিলে ব্যাপক কড়াকড়ি।এদিন সকালের দিকে বেশকিছু বহিরাগত বিডিও অফিসের সামনে জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠি চালায়।ছত্র ভঙ্গ হয়ে যায়।শাসক দলের নেতানেত্রীদেরও বেগ পেতে হয়েছিল। প্রার্থীর সাথে একজনের বেশি যেতে দেওয়া হয়নি।ফলে পুলিশ কে এদিন অন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গিয়েছিল।
মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার জন্য জাতীয় কংগ্রেসের ৪ প্রার্থী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিধায়ক কার্য্যালয়ে হাজীর হয়েছিলেন। সেখানে বিধায়ক নিজেই তাঁদের ফর্ম ফিলাপ করে দেন। সেখান থেকে বিডিও অফিস পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা করেন।
জাতীয় কংগ্রেসের আহম্মদ পিয়াদা জানিয়েছেন, ‘বিগত দিনে ক্যানিংয়ে যে ভাবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল তাতে করে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারবো কি না ভয়ে ছিলাম।বৃহষ্পতিবার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষদিনে বিধায়কের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি সমস্ত কাগজপত্র তৈরী করে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে সাহায্য করায় খুব খুশি।’
বিধায়ক পরেশরাম দাস জানিয়েছেন, ‘ভোটের লড়াই একদিন।আমরা সকলেই ৩৬৪ দিন এক সাথে কাটাই। গণতন্ত্রে সকলের অধিকার রয়েছে নির্বাচনে লড়াই করার।যে সমস্ত বিরোধীরা মনোনয়ন পত্র জমা করতে পারছিলেন না,কুৎসা রটাচ্ছিলেন।আমি বলেছিলাম,আমার কাছে আসুন। আমি নিজেই আপনাদের সহযোগিতা করবো।বৃহষ্পতিবার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষলগ্নে জাতীয় কংগ্রেসের ৩ জন সহ মোট ৪ জন প্রার্থী এসেছিলেন।আমি তাঁদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার কাজে সাহায্য করেছি।তারা মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পেরে খুশি হয়েছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *