ভুয়ো পাসপোর্ট মামলায় ফের তল্লাসি ইডির, গ্রেফতার আরও এক
কলকাতা ব্যুরো : ভুয়ো পাসপোর্ট মামলায় হানা দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির জালে ধরা পড়ল আরও একজন। বৃহস্পতিবার সকালে নদীয়ার চাকদহে ধৃতের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারেরা। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলা নতুন বছরের শুরুতেই কলকাতা, বিরাটি-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা হানা দেয়। সেই সময় বিরাটি থেকে আজাদ মল্লিক নামে একজনকে গ্রেফতার করে ইডি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এদিন নদীয়ার চাকদহে হানা দেয় ইডি আধিকারিকেরা।

ইডি সূত্রের খবর, আজাদ বাংলাদেশের নাগরিক। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়াতে একটি ক্যাফে রয়েছে তার। সেখান থেকেই ভুয়ো পাসপোর্টের কারবার চালাত সে। তাকে সহযোগিতা করত চাকদহের ওই ব্যক্তি। চাকদহের ওই ব্যক্তিই মিডলম্যানের কাজ করত। জানা গিয়েছে, প্রতিটি পাসপোর্টের জন্য প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা নেওয়া হতো। কখনও কখনও টাকার পরিমাণ বেড়ে হতো ৩০ থেকে ৪০ হাজার। পাসপোর্টের পাশাপাশি অন্যান্য নথি তৈরির কাজ করতো বলেও ধৃতেরা জেরায় জানিয়েছে।
ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত আজাদ মল্লিক আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। দশ বছর আগে সে ভারতে প্রবেশ করে। টাকার বিনিময়ে সে বাংলাদেশিদের জাল পাসপোর্ট বানিয়ে দিত। তদন্তকারী অফিসারদের সন্দেহ, শুধু ভুয়ো পাসপোর্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল না আজাদ, হাওয়ালা চক্রেও জড়িত থাকতে পারে। হাওয়ালার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে যুক্ত সে। তার স্ত্রী এবং সন্তান এখনও বাংলাদেশেই বসবাস করে। বুধবারই ধৃত আজাদকে বিশেষ আদালতে হাজির করানো হলে তাকে ১৪ দিনের ইডি হেফাজতে নির্দেশ দেয় আদালত।
উল্লেখ্য, ভুয়ো নথি দাখিল করে পাসপোর্ট তৈরির বিষয়টি প্রথম নজরে আসে গত বছরের শেষের দিকে। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের তথ্য থেকে এই চক্রের কথা জানতে পারে কলকাতা পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে ৩০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তখনই জানা যায় গোটা রাজ্যজুড়ে এই চক্র ছড়িয়ে রয়েছে। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে আটক হয়েছে ১৩০ জন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি। এদের মধ্যে কয়েক জনের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করেছিল কলকাতা পুলিশ। পরে এই মামলার তদন্ত শুরু করে ইডি।

