Saturday, November 26, 2022
Homeঅন্যান্যদেবীর নির্দেশে আজও ভিক্ষা করে পুজো হয় ফরাক্কার মিশ্রবাড়িতে

দেবীর নির্দেশে আজও ভিক্ষা করে পুজো হয় ফরাক্কার মিশ্রবাড়িতে

মা ভবতারিণী এসে শাঁখা পরেছিলেন। মাঝগঙ্গায় দশ হাতে শাঁখা পরা কিশোরীকে বিলীন হতেও নাকি দেখা গিয়েছিল। তারপর ফরাক্কা থেকেই দুর্গাপুজোর প্রচলন ফরাক্কার মিশ্রবাড়িতে। যদিও মিশ্রবাড়ির পূজার মিশ্র পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন ঠাকুর মিশ্র। তাঁর কোনও সন্তান ছিল না।যদিও মিশ্রবাড়ির পূজার মিশ্র পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন ঠাকুর মিশ্র। তাঁর কোনও সন্তান ছিল না।


সূচনা হয়েছিল মালদহ জেলার খেজুরিয়া ঘাটে। ১৩১১ বঙ্গাব্দে গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙনে তলিয়ে যায় দেবীর মাটির মন্দির। মিশ্র বাড়ির লোকেরা উদ্বাস্তু হয়ে চলে আসেন ফরাক্কার পলাশী গ্রামের। ধর্মীয় রীতি মেনে রথ যাত্রার দিন পূজার্চনার মাধ্যমে দেবীর কাঠামোয় মাটির মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়।মিশ্র বাড়িতে মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় চণ্ডীপাঠ। আজও নবমীর দিন পশু বলি দেওয়া হয়। মিশ্র বাড়ির পূজোর প্রাচীন ইতিহাসের কথা জানা যায় মিশ্র পরিবারের ছেলে ও তার বৌমার কাছ থেকে।ফারাক্কার মিশ্র পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন ঠাকুর মিশ্র। তাঁর কোন সন্তান ছিল না। দরিদ্র ব্রাহ্মণ ঠাকুর মিশ্র পূজার্চনা করে খুবই কষ্টের মধ্যে সংসার চালাতেন।একদিন এক শাঁখারী গঙ্গার তীর দিয়ে শাখা বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। গঙ্গার তীরে এক কিশোরী শাখার গাছের শাখা পড়তে চাই। কিশোরীকে শাখা পরিয়ে দাম চাইলে কিশোরী বলে তার বাবা ঠাকুর মিশ্র দাম দেবেন। শাখারী কিশোরীর কথা শুনে ঠাকুরের বাড়িতে গিয়ে দাম চান। শাখাটির কথাই হতভম্ব হয়ে পড়েন ঠাকুর মিশ্র। তার তো কোন কন্যা নেই ! শাঁখারী বলেন কিশোরী বলেছে বাবাকে বলবেন বাড়ির কোঠায় লাল শালুর নিচে কড়ি রাখা আছে।ঠাকুর মিশ্র ঘরের ভিতরে কোঠায় লাল শালুর সরাতেই চমকে ওঠেন কড়ি দেখে।সেই রাতে ঠাকুর মিশ্রকে মা ভবতারিণী স্বপ্ন দেখা দেন। ভোররাত্রে ঠাকুর মিশ্র ছুটে যান গঙ্গার তীরে। ঠাকুর মিশ্র দেখতে পান মাঝ গঙ্গায় এক কিশোরী লাল পাড় শাড়ি পড়ে দশ হাতে শাঁখা পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই রাতেই মা ভবতারিণী পুনরায় ঠাকুর মিশ্রকে স্বপ্নে নির্দেশ দেন তিনি তার হাতে পূজিত হতে চান। গঙ্গা থেকে তাকে নিয়ে এসে বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করতে বলেন।ঠাকুর মিশ্র দারিদ্রতার কারণে দেবীর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন। দেবী ভিক্ষে করে পুজো করার কথা বলেন। দেবী নির্দেশে ঠাকুর মিশ্র ভিক্ষা করে মিশ্র বাড়িতে প্রথম পূজার সূচনা করেছিলেন। বর্তমানে মিশ্র বাড়ির অর্থনৈতিক সংকট মোচন হলেও প্রাচীন রীতি মেনে আজও নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে ভিক্ষা গ্রহণ করে দেবীর পুজো করা হয়।১৩১১ বঙ্গাব্দে গঙ্গা ভাঙ্গন এর দেবীর থানের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেবী স্থানে দুটি বড় সাপের দর্শন দেখতে পান পরিবারের লোকেরা। রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পান মিশ্র পরিবারের লোকজন। দেবী অন্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত হতে চান। দেবী নির্দেশে মিশ্র পরিবার দেবীর থান তুলে নিয়ে আসেন ফরাক্কার পলাশী গ্রামে। প্রতিষ্ঠা করা হয় দেবীর মন্দির।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

More News

Recent Comments