ডুয়ার্সের বক্সা পাহাড়ে আয়োজিত ডুক্পা জনজাতির উৎসব পৌঁছলো আন্তর্জাতিক মানচিত্রে।

এই উৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, এটা এক জনজাতির জীবন, ইতিহাস আর আত্মপরিচয়ের উদযাপন। আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের অন্তর্গত বক্সা বাঘ বনের বুক চিরে পথ চলে গেছে, বক্সা পাহাড়ে। তিনদিন ধরে সেখানে চলে ডুকপা উৎসব।আয়োজনে ছিল অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম, সহযোগিতায় আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন।

ডুকপা জনজাতি মূলত পাহাড়নির্ভর জনগোষ্ঠী। প্রকৃতিকে দেবতা মনে করে তারা। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে, নদীর সাথে, পশুপাখির সাথে তাদের সম্পর্কটাই মৌলিক। তাদের ঘরবাড়ি, উৎসব, খাবার— সবকিছুর কেন্দ্রেই প্রকৃতি। সেই জনজাতির মানুষের জীবনযাত্রা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে এবং পর্যটনের প্রসার ঘটাতে এই উৎসব এর আয়োজন হয়েছিল, যা দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করেছে।
নিজেদের চাষ করা পাহাড়ি শাক সবজি দিয়ে রান্না করা সবজির স্বাদ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নজর কেড়েছে এবছর। বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটক প্রতিনিধি অতিথীরা ছাড়াও নেপাল ভুটান থেকে এসেছিলেন অতিথিরা।

বক্সা ফোর্ট এর মাঠে দ্বিতীয় বর্ষ ই উৎসব আয়োজিত হয়েছিল 28 শে নভেম্বর থেকে ৩০ শে নভেম্বর পর্যন্ত। এই জনজাতির পরনে থাকে রঙিন বোনা কাপড়, হাতে তৈরি গয়না। উৎসবের মঞ্চে তাদের নাচের সাথে মিলেমিশে যায় সবাই। উপভোগ করেন অতিথি থেকে পর্যটক সকলেই।
বক্সা ফোর্ট, লেপচাখা, আদমা, তাসিগাঁও— এসব পাহাড়ি ১৪ টি গ্রাম থেকে ডুকপা পরিবারগুলি এসে জড়ো হয়েছিল নিজের সংস্কৃতি দেখাতে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সামনে নিজের ইতিহাসকে তুলে ধরার সুযোগে উচ্ছ্বসিত তারাও। তীরন্দাজ, খুড়ো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তারা।

উৎসবের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক আর. বিমলা, প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক, ভুটানের চুখা জেলার প্রতিনিধি এবং ভুটান-ভারত ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল থিনলে দোরজে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনদপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর জ্যোতি ঘোষ, পর্যটন গান্ধী তথা উৎসবের অন্যতম উদ্যোক্তা রাজ বসু, উৎসব কমিটির সহ-সভাপতি সোহম চক্রবর্তী সহ অনেকেই। অনুষ্ঠানের শেষ দিন ৩০ শে নভেম্বর উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার, পদ্মশ্রী বাইচুং ভুটিয়া। অনুষ্ঠানে এসে ডুকপা জনজাতির মানুষের পোশাকে তীরন্দাজ খেলতেও দেখা যায় তাকে। কিংবদন্তি ফুটবলারকে কাছে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান সাধারণ মানুষ থেকে পর্যটকরা।

বক্সার পাহাড়ি অঞ্চলে ১৪টি গ্রামে মিলিয়ে প্রায় ৩,০০০-এর বেশি ডুকপা মানুষের বসবাস বলে জানা গেছে। বহু পুরনো ঐতিহ্য, বৌদ্ধ বিশ্বাস এবং পাহাড়ি জীবনধারা এখনও ধরে রেখেছে এই জনজাতি। বিশ্বের দরবারে এই জনজাতিকে তুলে ধরা, পাশাপাশি পর্যটনের প্রসার ঘটাতে এই ডুকপা উৎসবের আয়োজন হয়েছিল। দ্বিতীয় বছর এই উৎসব অনেকটাই সারা ফেলেছে বলে জানান আয়োজক বৃন্দ।

